রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা ও সামাজিক মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিং। এই নীরব মহামারি রুখতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও তদন্ত দক্ষতা বাড়াতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সাইবার ল্যাব স্থাপন এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি জনবল নিয়ে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনসহ ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে মামলা তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশব্যাপী জোরদার করা হয়েছে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে চলতি মাসেই ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ডিজিটাল ফরেনসিক ও সাইবার ল্যাব চালু করা হয়েছে। এছাড়া গত ১ অক্টোবর ঢাকায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে ৪ হাজার ৫৯২ জন সদস্য নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ যাত্রা শুরু করেছে। এর অধীনে বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়েও সাইবার তদন্ত ডেস্ক কাজ করছে। সম্প্রতি মিরপুর পুলিশ স্টাফ কলেজে ৩৩২ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তুলবেন।অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ১৯১টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০১ জনকে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, সাইবার জালিয়াতি ও অনলাইন হয়রানির মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সাইবার ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রশিক্ষণ মডিউল যুক্ত করা হয়েছে।এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীর আটটি বিভাগে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মোট ৩০৫টি মামলায় ৪০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রমনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৮টি মামলায় ১৬৩ জন গ্রেপ্তার হন।অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইউটিউব ভিডিওতে লাইক দেওয়া বা ঘরে বসে পার্ট-টাইম কাজের টোপ ফেলে শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও বেকার তরুণদের প্রতারণার জালে ফেলা হচ্ছে। শুরুতে সামান্য বোনাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে পরবর্তীতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ওটিপি জালিয়াতি, ভুয়া লিংক ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভিডিও দিয়ে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, “সাইবার অপরাধের জালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষ। প্রযুক্তি ব্যবহারে অসচেতনতা, দুর্বল পাসওয়ার্ড ও অতিমাত্রায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার কারণে মানুষ ফাঁদে পড়ছে।” বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক না করা, কাউকে ওটিপি বা পিন না দেওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি।রাজধানীতে সাইবার অপরাধের পরিসংখ্যান (চলতি বছর)ডিএমপি বিভাগমামলার সংখ্যাগ্রেপ্তারকৃত আসামিরমনা৮৮১৬৩ জনতেজগাঁও৫৩৪৯ জনগুলশান৩৮৩৭ জনমতিঝিল৩৩৪৯ জনমিরপুর৩৩২৭ জনউত্তরা২৬৩৪ জনলালবাগ২২২৩ জনওয়ারী১২২৪ জন