সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
মদন প্রতিনিধি (নেত্রকোনা) ।। নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মদন-তাড়াইল সড়কের বর্ণি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই চারপাশের এপ্রোচ ধসে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদারের অনিয়মের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সেতু নির্মাণের ৭ মাস না পেরোতেই এপ্রোচ ভেঙে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের বর্ণি নদীর সেতুর মূল কাজ সম্পন্ন হলেও এপ্রোচে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছু অংশে ঢালাইয়ের নিচের মাটি সরে গিয়ে এপ্রোচ নদীতে ভেঙে পড়েছে। সেতুটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ করা হলেও এর এপ্রোচ মাত্র ৭ মাসেই ধসে পড়েছে, যা সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মদন ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সংযোগ সড়কে ধানকুনিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বর্ণি নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকার ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয় এবং কিশোরগঞ্জের ‘পি পি এল চ্যালেঞ্জার’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০১৮ সালের ৮ই মার্চ কাজ শুরু হয়, যা ৫৪০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গাফিলতির কারণে সময়মতো কাজ শেষ হয়নি । পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, সেতুর কাজ শুরুর সময় থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়। এলজিইডিকে জানানো হলেও তদারকিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে নিম্নমানের কাজের কারণে এপ্রোচ এখন ধসে পড়েছে, যা সেতুর নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল জানান, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। এপ্রোচের ব্লক সরে গেছে, এবং ঠিকাদারকে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেতুর কাজ সঠিকভাবে শেষ করার পরই বাকি বিল দেওয়া হবে।