রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
শীতকালে শিশুরা ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়। এই সময়ে ব্রংকিওলাইটিস, অ্যাজমা এবং নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এসব রোগের নিরাময় ও প্রতিরোধে প্রয়োজন সঠিক সচেতনতা ও যত্ন।
ব্রংকিওলাইটিসের লক্ষণসমূহ ও করণীয়: নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি ও শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নিতে বাঁশির মতো শব্দ, হালকা জ্বর, খাবারে অরুচি এবং ঘুমের অসুবিধা।
প্রাথমিক যত্ন: শিশুকে কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিন। মাথা উঁচু করে শোয়াতে হবে। নাক পরিষ্কার রাখুন এবং পুষ্টিকর খাবার দিন। জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশুদের অ্যাজমার প্রতিরোধে করণীয়: ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন এবং শীতকালীন সুরক্ষামূলক পোশাক যেমন মাফলার, টুপি, মোজা ব্যবহার করুন।
ধুলাবালি থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরুন। ইনহেলার বা নেবুলাইজার ব্যবহারের নিয়ম জানা থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসায় তা ব্যবহার করুন। ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং ধুলাবালিমুক্ত রাখুন।
অ্যাজমা রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা: স্পাইরোমেট্রি ও মেথাকলিন টেস্ট: শ্বাসনালিতে বাধা বা সংবেদনশীলতা নির্ণয়। রক্ত পরীক্ষা: অ্যালার্জি এবং শ্বাসনালির সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা। স্কিন প্রিক টেস্ট ও অ্যালার্জি প্যানেল টেস্ট: কোন অ্যালার্জেন সমস্যা সৃষ্টি করছে তা নির্ণয়ে কার্যকর।
অ্যাজমার ক্ষেত্রে খাবারের ভূমিকা এবং পরিহারযোগ্য খাবার: গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, ইলিশ, বেগুন, হাঁসের ডিম।
উপকারী খাবার: শাকসবজি (গাজর, ব্রকলি), আদা, রসুন, মধু, আপেল। আদা চা এবং হালকা মসলাদার খাবার।
শীতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার দিন।
আক্রান্ত হলে তাড়াহুড়ো না করে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন।
জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
লেখক: ডা. আজমেরী সুলতানা চৌধুরী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকা।