রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম ডেস্ক:
শীত এলেই ঘন ঘন ঠান্ডা কাশি হতে দেখা যায়। এই সময় ভাইরাস দ্রুত শরীরে আক্রমণ করতে পারে, ফলে অনেকেই পুরো শীতকাল জুড়ে ঠান্ডা-কাশিতে ভুগে থাকেন। এর সাথে মাথা ভার হওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাবের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। কিন্তু কেন এসব সমস্যা হয়?— এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
শীতকালে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি পাওয়ার সুযোগ কমে যায়, কারণ সূর্যের আলো অনেক কম সময় থাকে। যারা ঘর থেকে বের হন না, তাদের শরীরে সহজেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সমস্যা মোকাবিলায় শীতকালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে হতে পারে।
শীতকালে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে শরীরে আয়রনের ঘাটতি। বিশেষত নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন। আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শীতকালে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে যুক্ত করা উচিত, যেমন- মাংস, ডাল, শাকসবজি।
ভিটামিন সি শরীরে না থাকলে শরীর সহজেই ভাইরাসের আক্রমণ সইতে পারে এবং সর্দি-কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জরুরি, যেমন- কমলা, লেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি।
শীতে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ধুলাবালি, জীবাণু বা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে সর্দি-কাশির কারণ হতে পারে। এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ঘর থেকে বের হলে নিয়মিত মাস্ক পরা উচিত। বিশেষত, কোভিড-১৯ এর সময়ে মাস্ক পরলে ঠান্ডা বাতাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে এবং ভাইরাস শরীরে প্রবেশে বাধা দেয়। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শীতকালীন সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন ডি, আয়রন, এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত এবং বাহিরে বের হলে মাস্ক পরা উচিত। এসব পদক্ষেপে ঠান্ডা কাশি ও সর্দি প্রতিরোধ করা সম্ভব।