বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোণার আলো ডটকম:
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে ডুবো তেলে ভাজা ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, ভাজাপোড়া খাবার কেবল পানিশূন্যতাই বাড়ায় না, বরং হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুস্থ থাকতে রমজানে সুষম ও সহজপাচ্য খাবার নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্যকর ইফতারের তালিকা: ইফতার শুরু করুন একটি খেজুর ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে পানি পান করুন। পানীয় হিসেবে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা মৌসুমি ফলের রস চমৎকার। বাড়তি পুষ্টির জন্য তোকমাদানা, চিয়া সিড বা ইসবগুলের ভুসি মিশিয়ে নিতে পারেন। ভাজাভুজির বদলে অঙ্কুরিত ছোলা, শসা, টমেটো ও লেবুর সালাদ বেছে নিন। শক্তির যোগান দিতে কম মসলার হালিম, সবজি-মুরগির স্যুপ, দই-চিড়া বা দুধ-ডিমের পুডিং হতে পারে আদর্শ খাবার।
যা এড়িয়ে চলবেন: ইফতারে কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিকযুক্ত খাবার একদমই খাবেন না। উচ্চ ক্যালরি এবং ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে বুকজ্বালা ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাতের খাবার ও সাহ্রি: ইফতারের পর রাতের খাবার না খেয়ে সরাসরি সাহ্রি করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাতে সহজপাচ্য খাবার যেমন—লাল আটার রুটি বা ভাত, ডাল, সবজি ও মাছ-মাংস খান। খাওয়ার পর টক দই হজমে সহায়তা করে।
সাহ্রির খাবার হবে পরিমিত ও পুষ্টিকর। আদর্শ থালার অর্ধেক অংশ সবজি, এক-চতুর্থাংশ শর্করা (ভাত/রুটি) এবং বাকি অংশে প্রোটিন (মাছ/মাংস/ডিম) রাখা উচিত। শেষ সময়ে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ বা ওটস খেতে পারেন, যা আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।