মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা চুক্তিতে আসার জন্য ইরানকে চরমপত্র দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যথায় ইরানের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে তেহরান এখনো নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সরাসরি সামরিক যুদ্ধের বদলে ‘লেয়ার্ড অ্যাসিমেট্রি’ বা বহুমুখী জটিল কৌশল নিতে পারে। সংঘাতের ব্যয় বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলাই তাদের মূল লক্ষ্য। হরমুজ অবরোধ করলে ইরান যে ৫টি বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে:
অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ডিজিটাল হামলা: স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিংয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে ‘কিল জোন’-এ পরিণত করতে পারে ইরান। এতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার ছাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রতলে ফাইবার অপটিক ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করে এশিয়া-ইউরোপের ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার হুমকিও রয়েছে।
আঞ্চলিক তেল ও পানি অবকাঠামো ধ্বংস: ‘নিজেরা তেল না বেচলে কাউকে বেচতে দেব না’—এই নীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের তেল ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে তেহরান।
সাইবার যুদ্ধ: মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার সক্ষমতা রাখে ইরানের হাকৃতি দলগুলো। এমনকি জাহাজের জিপিএস সংকেত পাল্টে বড় সংঘর্ষ ঘটানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রক্সি যুদ্ধ: ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননে থাকা মিত্রদের মাধ্যমে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে একযোগে ড্রোন ও রকেট হামলা চালাতে পারে ইরান।
কূটনৈতিক বিভাজন: চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর জাহাজকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে ফাটল ধরানোর কৌশল নিতে পারে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি জয় নয়, বরং যুদ্ধকে এতটাই ব্যয়বহুল করে তোলা ইরানের লক্ষ্য যাতে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।