বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সদ্যই শেষ হয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও এর আমেজ ও রেশ ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে দীর্ঘদিন। কেন এই বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, রাইজিংবিডি ডটকমের বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন ১০টি ঐতিহাসিক কারণ:
১. প্রথমবার ৪৮ দলের মহাযজ্ঞ : ফিফার সিদ্ধান্তে এবারই প্রথম ৩২টি দলের জায়গায় ৪৮টি দেশ অংশ নেয়। ১০৪ ম্যাচের এই আসরে কেপ ভার্দের মতো নতুন দলের আগমন বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।
২. তিন দেশের যৌথ আয়োজন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে এই সুবিশাল টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করে।
৩. স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা জয় : রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের মুকুট জিতে নেয় স্পেন। তরুণ ও সুশৃঙ্খল ফুটবলের সেরা প্রদর্শন দেখায় দলটি।
৪. নতুন শক্তির উত্থান : মরক্কো, কেপ ভার্দে ও নরওয়ের মতো দলগুলোর সাহসী লড়াই প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে।
৫. মেসি, রোনালদো ও নেইমারের শেষ অধ্যায় : ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি টানেন। একই সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রেরও এটিই ছিল শেষ বিশ্বকাপ।
৬. উদীয়মান তারকাদের রাজত্ব : লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসির মতো উদীয়মান তরুণ প্রতিভারা মাঠ মাতিয়ে বিশ্বকে আগামী এক দশকের ফুটবলের বার্তা দিয়ে রেখেছেন।
৭. প্রযুক্তির উন্নত ব্যবহার : ভিএআর (VAR), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিকসের কার্যকর ব্যবহারে খেলা পরিচালনা হয়েছে আরও স্বচ্ছ।
৮. রেকর্ড পুরস্কার অর্থ : ফিফার রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন স্পেন পায় ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যকে তুলে ধরে।
৯. সাংস্কৃতিক মহোৎসব : উত্তর আমেরিকার বিশাল ফ্যান জোন ও গ্যালারিতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অংশগ্রহণ খেলাটিকে এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত করে।
১০. বিতর্ক ও মানবিক গল্প : অন-ফিল্ড নাটকীয়তা, বিতর্ক ও মাঠের বাইরের বিভিন্ন মানবিক গল্প টুর্নামেন্টটিকে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও প্রাণবন্ত করে রেখেছিল।
সংক্ষেপে, ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল আসর ছিল না; এটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের রূপান্তরের এক যুগান্তকারী মাইলফলক।