বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অর্জন হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন—জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না হলে উত্তরণ-পরবর্তী নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর নীলক্ষেতে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শীর্ষক কৌশলগত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, “এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হলেও প্রকৃত পরীক্ষা হবে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতিকে প্রতিযোগিতামূলক রাখা। শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন বাস্তবতার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গ্যাস সরবরাহ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সেবাগুলো দ্রুত অনলাইনভিত্তিক করার কাজ চলছে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সুশাসন ও নীতির ধারাবাহিকতাকে অপরিহার্য উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পণ্যের মূল্য সংযোজন এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের দাবি জানান।
আইসিএমএবি সভাপতি মো. কাওসার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা।