শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ইতালির দক্ষিণ উপকূলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক অন্তত ১২টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দফায় দফায় এই ভূকম্পনের পরপরই সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় অঞ্চলে জারি করা হয়েছে জরুরি সুনামি সতর্কতা। আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ইতালির জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সিসিলি অঞ্চলের তিরেনিয়ান সাগরে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ০। এর প্রভাব সবচেয়ে তীব্র অনুভূত হয়েছে মেসিনা ও পালেরমো এলাকায়। এছাড়া বাকি ১১টি কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ০-এর উপরে রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘন ঘন ভূকম্পনের পরিপ্রেক্ষিতে সিসিলির সিভিল প্রোটেকশন প্রশাসন উপকূলজুড়ে দ্রুত ‘অরেঞ্জ’ বা কমলা রঙের সুনামি সতর্কতা জারি করে। সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও আফটারশকের ঝুঁকি এড়াতে পালেরমো ও মেসিনা অঞ্চলের সব স্কুল তাৎক্ষণিকভাবে খালি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ট্রাপানির একটি আদালত ভবন থেকেও বিচারক ও কর্মকর্তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আতঙ্কে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ভূকম্পনপ্রবণ ইতালিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস নতুন নয়। গত বছর দেশটির নেপলস শহরে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নতুন করে বারবার ভূমিকম্প ও সুনামির আশঙ্কায় সিসিলিসহ পুরো দক্ষিণ ইতালীয় উপকূলজুড়ে এখন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।