শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও তাঁর নিজের জেলজীবনের ইতিহাস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কটূক্তি বন্ধের কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলম। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকটি আয়োজনে নেপথ্যে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরে মেঘনা আলম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে ছিলেন, তখন আমার সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের কোনো পরিচয়ই ছিল না। এর অনেক পর ওনার সঙ্গে আমার পরিচয় ও বাগদান সম্পন্ন হয়। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম কূটনৈতিক বৈঠকটি আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি (সাবেক রাষ্ট্রদূত) বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।”
মেঘনা আলম দাবি করেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওই সৌদি রাষ্ট্রদূত ধারণা করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় হয়তো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রদূতকে দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দেন। এমনকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই অন্যান্য রাষ্ট্রদূতদের চেয়ে আগে যাতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়, সে বিষয়েও তিনি রাষ্ট্রদূতকে রাজি করিয়েছিলেন।
নিজের এবং খালেদা জিয়ার কারাবাসের স্মৃতি টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে বছরের পর বছর কারাবরণ করেছিলেন। আমিও রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিনাবিচারে কারাবরণের তিক্ত স্বাদ নিয়েছি। সেই সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি ও নোংরামি করবেন না।”
পোস্টে সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মেঘনা আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে হেয় করা ও নোংরা মানসিকতার কারণেই বিদেশে বাংলাদেশিদের মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। এমনকি সৌদিতে বাংলাদেশি বিয়ে করার ক্ষেত্রেও নানা কঠোর বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে।
ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফটোকার্ড ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সেগুলো দ্রুত সামাজিক মাধ্যম থেকে মুছে ফেলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা এবং এমন একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা জরুরি, যাতে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখা হয়।