মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, জনগ্রহণযোগ্যতা ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকেই বিএনপি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কেন্দ্রীয় কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ের জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমেই প্রতিটি পদে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবীর রিজভী বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে যাঁর বিজয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, দল তাঁকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা গভীরভাবে যাচাই করা হবে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পর দলের মনোনয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ গতি পাবে এবং মনোনয়ন জমা ও ভোটের সময়সূচি অনুযায়ী দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশে চলমান পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করে বলেন, এই আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি গভীর ষড়যন্ত্র ও ইন্ধন কাজ করছে। তিনি বলেন, “পরাজিত অপশক্তি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরের কিছু রাজনৈতিক শক্তিও নতুন গণতান্ত্রিক সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।”
তিনি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নিরীহ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে রাজপথে নামানোর পেছনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। তাঁর দাবি, গতকালই ঘটনাস্থল থেকে নাশকতার অভিযোগে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় আবার কীসের বিপ্লবের কথা বলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। যেসব সংকট সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব, তা নিয়ে লংমার্চের ডাক দিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত ও উসকে দেওয়া হচ্ছে।”
জামায়াতের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে রাজপথে থেকে প্রকাশ্যে রক্ত ও জীবন দিয়ে গণতন্ত্রের ভিত গড়েছে। আর সেই সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ভেতরে আত্মগোপন করে গোপনে ফায়দা লুটেছেন। এ কারণে জামায়াত বাস্তবে একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ হিসেবেই কাজ করেছে।”
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।