সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শেষে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। কূপটির দুটি আলাদা স্তরে (জোন) প্রায় ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বলনের (ফ্লেয়ারিং) মাধ্যমে কূপটিতে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এই সফলতার মধ্য দিয়ে দেশের সার্বিক জ্বালানি সংকট নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার হলো।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এবং ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ৮ জুলাই অনুসন্ধান কূপটির খনন শুরু হয়। বাপেক্সের নিজস্ব খননযন্ত্র ‘বিজয়-১০’ রিগ ব্যবহার করে টানা প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ভূগর্ভের ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননকাজ চালানো হয়। খনন শেষে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কূপটির দুটি স্তরে উচ্চচাপযুক্ত এই গ্যাসের মজুতের সন্ধান মেলে।
বাপেক্সের আর্থিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, কূপটির দুটি জোনে মোট মজুত ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বর্তমান ভোক্তা পর্যায়ের বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাসের পাশাপাশি মূল্যবান কনডেনসেট, তেল কিংবা অন্য কোনো খনিজ পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা আগামী ১৫ দিন ধরে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) সম্পন্নের পর চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাবে।
বাপেক্সের ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসান জানান, প্রকৌশলী ও কর্মীদের দিনরাত টানা পরিশ্রমের পর সোমবার সন্ধ্যায় সফল অগ্নিপ্রজ্বলনের মাধ্যমে মাটির নিচে সঞ্চিত গ্যাসের অস্তিত্ব দৃশ্যমান হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, নতুন গ্যাসের এই আবিষ্কার দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “কোম্পানীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান নোয়াখালীবাসীসহ সমগ্র জাতির জন্য এক বিশাল আনন্দের সংবাদ। এই গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পাশাপাশি এর সুফল যেন স্থানীয় শিল্পায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।