সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতার ১০ ইনডোর প্ল্যান্ট: বিজ্ঞান কী বলে? ২০২৭ সালে ২৯ দিন সরকারি ছুটি, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বাড়ল অটোগ্যাসের দাম, রাত থেকেই কার্যকর নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান নেত্রকোনার ধনু নদে অবৈধ বালু তোলায় একজনের জরিমানা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: ভারতীয় কম্বল ও রসুনের চালান জব্দ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন বারহাট্টায় সীমানা বিরোধে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই খুন, আহত স্ত্রী-মেয়ে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন রিজভী আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানালো অধিদপ্তর
ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতার ১০ ইনডোর প্ল্যান্ট: বিজ্ঞান কী বলে?

ঘরের সৌন্দর্য ও সতেজতার ১০ ইনডোর প্ল্যান্ট: বিজ্ঞান কী বলে?

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

ঘরের এক কোণে রাখা সামান্য একটি সবুজ গাছ নিমিষেই বদলে দিতে পারে পুরো গৃহকোণের আবহাওয়া। চার দেয়ালে যুক্ত হয় স্নিগ্ধতা ও প্রকৃতির ছোঁয়া। নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু ইনডোর গাছ পরীক্ষাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় বাতাসের ক্ষতিকর দূষক পদার্থ শোষণের সক্ষমতাও দেখিয়েছে। এ কারণে অ্যালোভেরা, স্নেক প্ল্যান্ট, স্পাইডার প্ল্যান্ট কিংবা পিস লিলির মতো গাছগুলো গৃহসজ্জাপ্রেমীদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা মাথায় রাখা জরুরি। পরীক্ষাগারের নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে ক্ষতিকর গ্যাস শোষণের প্রমাণ মিললেও সাধারণ বাসাবাড়িতে মাত্র কয়েকটি টবের গাছ ঘরের বাতাস পুরোপুরি পরিশোধিত বা বিষমুক্ত করতে পারে না। বাস্তব পরিবেশে এর প্রভাব সীমিত হলেও মানসিক প্রশান্তি, নান্দনিক সৌন্দর্য এবং সতেজ পরিমণ্ডলের জন্য এসব গাছ নিঃসন্দেহে দারুণ অনুষঙ্গ।

ঘরের সাজে মানানসই ১০টি জনপ্রিয় ইনডোর প্ল্যান্ট
১. অ্যালোভেরা

নানা ভেষজ ও ঔষধি গুণের জন্য অ্যালোভেরা সুপরিচিত হলেও গৃহসজ্জায় এর কদর কম নয়। এর রসালো ও পুরু সবুজ পাতা দেখতে চমৎকার এবং পরিচর্যাও সহজ। গবেষণাগারে এটি ফর্মালডিহাইড ও বেনজিনের মতো রাসায়নিক দূষক কমাতে ভূমিকা রেখেছে। তবে গাছটি সুস্থ রাখতে উজ্জ্বল আলো এবং পরিমিত পানির প্রয়োজন; অতিরিক্ত পানি শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।

২. গোল্ডেন পোথস বা মানি প্ল্যান্ট
সবুজ ও হলদেটে পাতার লতানো এই গাছ দেয়ালের তাক, বুকশেলফ কিংবা ঝুলন্ত টবে সবচেয়ে বেশি মানায়। খুব কম আলো ও সামান্য যত্নেও এটি তরতাজা থাকে। গবেষণায় ফর্মালডিহাইড, বেনজিন ও জাইলিন শোষণের সক্ষমতা মিলেছে।

সতর্কতা: গোল্ডেন পোথসের পাতা বিড়াল ও কুকুরের জন্য বিষাক্ত। বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে গাছটি তাদের নাগালের বাইরে ঝুলিয়ে রাখুন।

৩. ইংলিশ আইভি

লম্বাটে লতানো পাতার এই গাছ ঘরের নকশায় আনে রাজকীয় রূপ। ঝুলন্ত টব কিংবা জানালার গ্রিলের পাশে রাখলে চমৎকার দেখায়। ঘরের কিছু ক্ষতিকর বায়ুদূষক কমাতে এটি কাজ করে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, মাটির আর্দ্রতা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।

৪. অ্যারেকা পাম
ঘরের কোণে বড় আকারের কোনো গাছ বসাতে চাইলে অ্যারেকা পাম সেরা বিকল্প। ছড়ানো ঘন পাতা পুরো লিভিং রুমে ক্রান্তীয় সতেজতা তৈরি করে। এটি মূলত পরোক্ষ আলোতে ভালো বাড়ে। গবেষণাগারে বেনজিন ও ফর্মালডিহাইড শোষণের সক্ষমতা দেখিয়েছে এটি।

৫. স্পাইডার প্ল্যান্ট

নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে সহনশীল একটি ইনডোর প্ল্যান্ট। সরু লম্বা পাতার ফাঁক থেকে বের হওয়া ছোট ছোট ঝুলন্ত চারা এর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। টেবিল কিংবা বারান্দার ঝুলন্ত টবে এটি খুব ভালো থাকে। মাটি শুকিয়ে এলে সামান্য পানি দিলেই এটি সতেজ থাকে।

৬. পিস লিলি

গাঢ় সবুজ পাতার বুক চিরে ওঠা শুভ্র সাদা ফুল ঘরের ভেতর এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে। সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে ঘরের কম আলোতেও এটি বেঁচে থাকে। গবেষণায় বেনজিন ও জাইলিনের মতো দূষক কমানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে এর পাতাও পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৭. স্নেক প্ল্যান্ট

‘মাদার-ইন-ল’স টাং’ নামেও পরিচিত এই গাছের সোজা, খাড়া পাতা মডার্ন ইন্টেরিয়র ডিজাইনে আধুনিক রূপ আনে। এটি অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু এবং খুব কম আলোতেও টিকে থাকে। উদ্বায়ী জৈব যৌগ (VOC) শোষণে এটি কার্যকর। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে ঘন ঘন পানি দেওয়ার ঝামেলা নেই।

৮. চাইনিজ এভারগ্রিন
পাতার অসাধারণ রঙের বৈচিত্র্যের কারণে এটি সবার নজর কাড়ে। সবুজের মাঝে রুপালি, গোলাপি ও লালচে নকশা ঘরকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কম আলোতেও এটি স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। তবে এই গাছের পাতাও কুকুর বা বিড়ালের পেটে গেলে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

৯. ড্রাসিনা
সরু ও ধারালো পাতার কারণে ড্রাসিনা দেখতে দারুণ নজরকাড়া। ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি বেশ জনপ্রিয়। পরোক্ষ আলোতে এটি চমৎকার বাড়ে এবং কিছু রাসায়নিক দূষক কমাতে সহায়তা করে। পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা ভালো।

১০. বোস্টন ফার্ন

ঝুলন্ত কোমল ও ঘন পাতার সমারোহে বোস্টন ফার্ন ঘরের কোণায় বনভূমির সতেজ রূপ ফুটিয়ে তোলে। গাছটির জন্য একটু আর্দ্র পরিবেশ ও আর্দ্র মাটি প্রয়োজন। নিয়মিত স্প্রে করে পাতা ভেজা রাখলে গাছটি দীর্ঘদিন সবুজ ও সতেজ থাকে।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com