বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে উচ্চকক্ষ সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ডেমোক্র্যাটরা। এবারের নির্বাচনে সিনেটের অন্তত ছয়টি এবং প্রতিনিধি পরিষদের এক ডজনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের অপরাজেয় ও শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা চমকপ্রদ জয় তুলে নিয়েছেন। টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো কট্টর রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো সিনেট আসনে বিজয়ী হয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
সিনেটের পাশাপাশি রাজ্য গভর্নর নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস, ওহাইওতে অ্যামি অ্যাকটন, আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। এসব অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা গভর্নরের পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে দলটি।
এপির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়েছিল। ‘এপি ভোটার পোল’-এর জরিপ অনুযায়ী, সিংহভাগ ভোটারই ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে ভোটারদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আগ্রাসী প্রচার চালিয়েছিলেন, যেন ব্যালটে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের সুস্পষ্ট অনাস্থা ও অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা গেছে বলে বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই নিরঙ্কুশ জয় ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনবে। এর ফলে হোয়াইট হাউসের যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় স্তরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিগত কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসীয় তদন্তের পরিধি আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে এপি জানায়, দেশটিতে কেন্দ্রীয় কোনো একক নির্বাচন কমিশন না থাকায় সংবাদ সংস্থাটি প্রায় সাত হাজার নির্বাচনী আসনের ভোট ও তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে বিজয়ী ঘোষণা করে থাকে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন (সার্টিফাই) করতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়।