বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ বা ছবি তুলতে গিয়ে উগ্র বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ পথচারীরা। গত কয়েক দিনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্তত ছয়জন পেশাদার সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণের কারণে সাধারণ মানুষের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া, ভেঙে ফেলা এবং এক শ্রমিকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরে সময় টিভির প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসন, এখন টিভির প্রতিবেদক, কালিয়াকৈরে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি, দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি এবং এশিয়া পোস্টের প্রতিনিধি।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, পোশাকশ্রমিকদের বাস্তবসম্মত মজুরি আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী ‘তৃতীয় পক্ষ’ শিল্পাঞ্চলজুড়ে নাশকতা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হলে তাদের আসল পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে ছবি তুলতে গেলেই অতর্কিত হামলা চালানো হচ্ছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুরনো কাগজ ও টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশের কয়েকজন যুবক। এ সময় তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘কেউ ছবি তুলবেন না।’ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকলেও প্রাণনাশের আশঙ্কায় কেউ ছবি তুলতে পারেননি। কয়েকজন উৎসুক মানুষ মুঠোফোনে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকজনের ফোন ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সময় বর্বর হামলার শিকার হন তৌফিক হোসেন নামের এক পোশাকশ্রমিক। ঘটনার সময় তৌফিক বিক্ষোভের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করছিলেন। আন্দোলনকারীদের একটি দল তাকে বহিরাগত বা গুপ্তচর ভেবে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ প্রসঙ্গে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সাধারণ মানুষের মোবাইল ছিনতাই ও ভাঙচুরের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তিনি বলেন, “ছবি বা ভিডিও ফুটেজ সামনে এলে হামলাকারী নাশকতাকারীদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়েই হয়তো তারা এ ধরনের উগ্র আচরণ করছে।” তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।