বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং দলীয় পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়নসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে চীনা মন্ত্রী দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।
লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত করতে চায় বেইজিং। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে চীনের সর্বাত্মক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে চীনের।
বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ ও চীনের গভীর সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা আজও দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে অটুট রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তা তুলে দেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের পবিত্র দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পরই বাংলাদেশে জনপ্রিয় ‘খাল খনন কর্মসূচি’ শুরু হয়েছিল, যা দেশের কৃষিবিপ্লবে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। এটি কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। লিউ হাইশিং জানান, দুই দলের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করতে বেইজিং অত্যন্ত আগ্রহী। এ লক্ষ্যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর ও রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে চীনের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর তৈরি হওয়া সংকটের কথা তুলে ধরে চীনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে চীনা মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, এ সংকট সম্পর্কে চীন সম্পূর্ণ অবগত এবং তিনি বিষয়টি সরাসরি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন চীনা কূটনীতিকবৃন্দ।