সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
হাম নিয়ন্ত্রণে দেশে বারবার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানো সত্ত্বেও সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বর ও চলতি অক্টোবরের শুরুতেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় বিগত কর্মসূচিতে বাদ পড়া ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে খুঁজে বের করে পুনরায় টিকার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উদ্বেগজনক সংক্রমণ ও মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এবং নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৬৬৬ জন। এই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ১২২ জন। কেবল সেপ্টেম্বরেই প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
নিয়মিত টিকাদানের ঘাটতি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় রাখা প্রয়োজন। তবে ইউনিসেফের তথ্যে দেখা যায়, দেশে হাম-রুবেলা টিকার দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৯ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা: আগের কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিকার কার্যকারিতা ও গবেষণার ফল: টিকাদানের পরও সংক্রমণ ঘটায় টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আইসিডিডিআর,বি-র গবেষণায় বলা হয়েছে, হামের ভাইরাসে টিকা-প্রতিরোধী নতুন কোনো রূপ বা ভ্যারিয়েন্টের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, টিকা অকার্যকর হওয়া নয়, বরং বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা না পাওয়ার কারণেই সংক্রমণ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের তাগিদ: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো প্রাণঘাতী জটিলতা হতে পারে। তাই শুধু টিকা নয়, আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।