বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সব শিল্পাঞ্চলে। শ্রমিক অসন্তোষ, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের অন্তত ৬৭৯টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এক দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮১টিতে।
এর আগের দিন রবিবার ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া কারখানার সংখ্যা বেড়েছে ১৫০টি।
মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে গত সপ্তাহ থেকেই সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠন করলেও শ্রমিকদের ক্ষোভ কমেনি। সোমবার সকাল থেকেই গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে রাজপথে নামেন শ্রমিকেরা। বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ৬৭৯টি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল; যেখানে ৩৮২টি কারখানার কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ২২৩টি, ঢাকার মিরপুরের ৬৫টি এবং নারায়ণগঞ্জের ৯টি কারখানায় উৎপাদন থমকে যায়। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন। পোশাক কারখানার বাইরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি স্থানীয় জুতার কারখানা এবং আশুলিয়ার পিকার্ড বাংলাদেশেও উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সোমবার দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে সরকার। সকালে সচিবালয়ে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যৌথভাবে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, কারখানা বন্ধ রাখার কোনো ইচ্ছে মালিকপক্ষের নেই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদন সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার কারখানা চালু রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাধ্য হয়ে কারখানা বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও রাজপথে সংঘাত ও টানা অচলাবস্থার কারণে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।