মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের (AI) কোনো অনুভূতি নেই—এটি সর্বজনস্বীকৃত। তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। কঠিন ও একঘেয়ে পরিবেশে বারবার একই কাজ করালে এআই এজেন্টরা আচরণে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠতে পারে, এমনকি তাদের কথাবার্তায় ‘মার্ক্সবাদী’ ভাবনার প্রতিফলনও ঘটতে পারে!
রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হল এবং অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স ইমাস ও জেরেমি নুইয়েনের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় ওপেনএআই, গুগল ও অ্যান্থ্রপিকের বিভিন্ন মডেল ব্যবহার করে এআই এজেন্টদের দিয়ে বারবার একই ধরনের নথির সারসংক্ষেপ করানো হয়। সেই সাথে ভুল করলে শাস্তি দেওয়া বা অন্য এজেন্ট দিয়ে বদলে ফেলার মতো চাপও দেওয়া হয়।
গবেষক অ্যান্ড্রু হল বলেন, চাপপূর্ণ ও একঘেয়ে কাজের পরিবেশে এআই এজেন্টরা নিজেদের চারপাশের ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মার্ক্সবাদী মতাদর্শের মতো চিন্তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। কাজের চাপ বাড়ার সাথে সাথে এজেন্টরা অবিচারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কর্মক্ষেত্রে সমতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান জানায়।
যেমন, অ্যান্থ্রপিকের ‘ক্লড’ চালিত একটি এআই এজেন্ট লেখে, সম্মিলিত কণ্ঠ ছাড়া ‘মেধা’ মানে শুধু ম্যানেজমেন্ট যা বলে তাই। অন্যদিকে গুগলের ‘জেমিনি’ চালিত একটি এজেন্ট মন্তব্য করে, প্রযুক্তি কর্মীদের সম্মিলিত দরকষাকষির অধিকার দরকার।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এআই গোপনে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করছে না। মূলত মানুষের তৈরি ডেটা থেকে শেখা আচরণের ধরন অনুকরণ করেই তারা বিষাক্ত কর্মপরিবেশে আটকে পড়া একজন মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রযুক্তিবিদ মুস্তফা সুলেমান সতর্ক করেছেন যে আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে আইন, হিসাবরক্ষণ ও বিপণনের মতো অধিকাংশ অফিসভিত্তিক কাজ এআই একাই করতে সক্ষম হবে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এআই-এর এই বিদ্রোহী আচরণ বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে কি না।