শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ভোরে বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় মান-সম্মানের ভয়ে প্রথমে শিক্ষক গণপতিকে এবং পরে একে একে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। ঘটনার রাতে তারা দফায় দফায় সর্বোচ্চ ৯টি ইয়াবা সেবন করেছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি তাদের দেখে ফেললে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে গণপতিকে এবং পরে ছাদে আসা তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর নিচে নামলে গণপতির ছোট ছেলে প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে নাম ধরে চিনে ফেলায় তাকেও নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা।
হত্যাকাণ্ড শেষে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দিতে ঘরে এলোমেলো করে স্বর্ণালংকার লুট করে স্থানীয় একটি মন্দিরের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়। এছাড়া সিসিটিভি এড়াতে তারা বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং লাশ গোপন করে ওই বাসাতেই গোসল সারে। নিহত মা ও মেয়ের প্রাথমিক ফরেনসিকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। পুলিশ জানায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বা সামাজিক ক্ষোভের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।