শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৬ জন, যাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের তীব্রতায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে প্রথম শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের নাগকু শহরের পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। তিব্বতের আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে উৎপত্তিস্থলটি প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৩৯টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে তিন শতাধিক পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও তীব্র শীতের মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও বাসাবাড়ি থেকে আতঙ্কিত মানুষজন রাস্তায় নেমে আসছেন এবং বিভিন্ন বিপণিবিতানের তাক থেকে পণ্যসামগ্রী নিচে আছড়ে পড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল কম্পনের প্রায় ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ওই অঞ্চলে আরেকটি পরাঘাত (আফটারশক) আঘাত হানে।
এদিকে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, তিব্বতের পাশাপাশি চীনে ৫ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভারতীয় সময় রাত ৮টা ২৯ মিনিটে সংঘটিত ওই কম্পনের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, ভূকম্পনপ্রবণ তিব্বতের এই অঞ্চলে প্রায়ই বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের তিংরি কাউন্টিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।