সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার পর দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর পদত্যাগে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন— তা নিয়ে এখন দলটির ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, দলটিতে যেন কোনো সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য আপাতত একজনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। পরবর্তীতে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দৌড়ে এগিয়ে রিজভী:
মহাসচিব পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিএনপির অন্যতম দৃশ্যমান মুখ। সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বা মন্ত্রিসভায় না থাকায় তাঁর সাংগঠনিক কাজে পূর্ণ সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা জোরালো।
বিকল্প আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমেদ:
রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নীতিনির্ধারণী পদে অবস্থান এবং সরকার পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ তাঁকে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
গঠনতন্ত্র ও পরবর্তী প্রক্রিয়া:
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানান, মহাসচিব পদ শূন্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপাতত একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত করা হবে।
১৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান:
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপিতে একটি দীর্ঘ নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ হলো। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব ও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে কঠিন পরিস্থিতিতেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।