বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
দুর্গাপুরে শুটার শামীমের ভাই ১৯ মামলার আসামি ‘বদি’ গ্রেপ্তার

দুর্গাপুরে শুটার শামীমের ভাই ১৯ মামলার আসামি ‘বদি’ গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক, নেত্রকোণার আলো ডটকম:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার অপরাধ জগতের বহুল আলোচিত মুখ ও হত্যাসহ অন্তত ১৯টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বদিউল আলম বদি ওরফে বদিউজ্জামানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বদিউল আলম বদির গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিনি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়ালের ছোট ভাই। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আলোচিত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ‘শুটার শামীম’-এরও ভাই। পারিবারিক ও রাজনৈতিক বলয়ের আড়ালে গত দুই দশক ধরে এলাকায় তার বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড (পিসিপিআর) পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পিতা সাত্তারের পুত্র বদির বিরুদ্ধে ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুর থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৫ সালের মে মাসে প্রথম হত্যা মামলায় তার নাম জড়ায়। এরপর ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দফায় দফায় মামলা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আদালতে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করলেও এতদিন তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। বিশেষ করে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিট হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দায়েরকৃত একটি হত্যা ও সহিংসতা মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ মূল চার্জশিট এবং ২০ জুলাই সম্পূরক চার্জশিটে তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

তবে এবার কেবল পুরোনো মামলার কারণে নয়, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সরাসরি যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বদিউল আলম বদির বিরুদ্ধে পুরোনো একাধিক বড় অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সে নেপথ্যে থেকে অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত তাকে একটি অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। রিমান্ডে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সাংবাদিক হত্যার মূল রহস্য ও পরিকল্পনাকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে।”

এদিকে দুই দশকে ১৯টি মামলার আসামি হওয়ার পরও দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এই শীর্ষ অপরাধী গ্রেপ্তার হওয়ায় দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকারী ও নেপথ্যের মদদদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

( নেত্রকোণার আলো ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 www.netrakon-r-alo.com